ঈদ মানেই আনন্দ, খুশি। আর এ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই ছুটে যান পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। এবারের রমজানের ঈদে থাকছে টানা ৯ দিনের লম্বা সরকারি ছুটি। ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আনন্দ দিতে প্রস্তুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বান্দরবান। ছুটিতে বান্দরবান দেখতে ছুটে আসবেন পর্যটকেরা। হবে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়।
ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক সরকারি ছুটিতে বান্দরবানে আগাম হোটেল বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ হোটেল-মোটেলের ৮০-৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণপ্রত্যাশিরা। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।
পাহাড়ের পর্যটন অর্থনীতি চাঙা হবে এমনটাই আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোটেল গ্রীন হিলের এম ডি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো রমজান মাস জুড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। হোটেলের রুমগুলো ভালোভাবে সাজানো হয়েছে। ঈদের পরের দিন থেকে পর্যটকের চাপ রয়েছে।ইতিমধ্যে হোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষই আগাম ভাড়া হয়ে গেছে।
পর্যটনকেন্দ্র নীলাচলের পথে ফানুস রিসোর্টের ব্যবস্থাপক বলেন, পর্যটকদের জন্যআমাদের রিসোর্ট পুরোটাই পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে রেখেছি। এর মধ্যে অনেকে কক্ষের জন্য আগাম বুকিং দিয়ে দিয়েছে। মনে হচ্ছে ছুটিতে এবার প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটবে।
এদিকে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে যানবাহন বিশেষ করে ভাড়া গাড়ির ব্যবসায়ী ও ট্যুর অপারেটররাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফোরহুইলার গাড়ির মালিক ও চালকেরা জানিয়েছেন, জেলা ও উপজেলার তিন শতাধিক পর্যটক গাইড, দুই শতাধিক চাঁদের গাড়ির (ফোরহুইল গাড়ি) চালক অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদে লম্বা ছুটি থাকার কারণে এখানে প্রচুর পর্যটক আসবে। এখানে ৭০টি হোটেল মোটেল রিসোর্ট আছে। যার ধারণ ক্ষমতা ৫ হাজারের অধিক। এরইমধ্যে হোটেলগুলোতে ৭০-৮০ শতাংশের অধিক আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
বান্দরবানের ট্যুরিস্ট পুলিশ জানান , এখানে অনেক পর্যটকের সমাগম হবে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেকটা পর্যটনকেন্দ্রে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্যুরিস্টদের যে কোনো প্রয়োজনে আমরা তাৎক্ষণিভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
হোটেল গার্ডেন সিটির মালিক মো. জাফর উল্লাহ জানান, ২-৭ এপ্রিল পর্যন্ত তার হোটেলের প্রায় ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে যাবে।
হোটেল হিল ভিউর ফ্রন্ট ডেক্স ম্যানেজার মো. তৌহিদ পারভেজ জানান, আগামী ২, ৩ ও ৭ এপ্রিল হোটেলের ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে নিয়েছে ভ্রমণপ্রতাশিরা। ঈদের যে কদিন সময় আছে এরমধ্যে বুকিংয়ের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হোটেল হিল্টনের ম্যানেজার আক্কাস উদ্দিন সিদ্দিকি জানান, এরমধ্যে ২-৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকড হয়ে গেছে। এ সংখ্যা আরও বাড়বে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার মো. সুমন জানান, ৩-৪ এপ্রিলের জন্য তার হোটেলের ৪০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে টানা ছুটির কারণে পর্যটকরা ভালো সাড়া পাচ্ছেন। পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল করিম জানান, ঈদের ছুটিতে বেশ পর্যটক আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করবে।
অসীম রায় (অশ্বিনী)
বান্দরবান
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন