পিআইও’র ৮২ লাখ টাকা’র সড়ক নির্মাণে অনিয়ম !



বান্দরবান রোয়াংছড়ির ছাইঙ্গ্যা এলাকায় নিন্মমানের ইট ও বালি দিয়ে তৈরী হচ্ছে সড়ক।

বান্দরবানে পিআইও-ঠিকাদারের যোগসাজশে গ্রামীণ সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অর্থায়নে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের অধীনে জেলার রোয়াংছড়ি উপজেলার ছাইঙ্গ্যা এলাকায় তেঁতুলিয়াপাড়া ও ফাইক্ষ্যংগ্রীপাড়া কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে এসব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। 

আর এইসব অনিয়মের তদারকি না করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ঠিকাদারকে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলটন দস্তিদার।  

জানা যায়, গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের জন্য সড়কের দু’পাশে রাখা হয়েছে স্থানীয় ঝিরি থেকে তোলা বালি ও নিম্নমানের অর্ধভাঙা ইট। এ ছাড়াও কিছু কিছু জায়গায় দেয়া হচ্ছে বালির পরিবর্তে পাহাড়ের মাটি। 

রাস্তার আশপাশে তেমন কোনো জনবসতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে এধরনের অনিয়ম করে যাচ্ছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদিকে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ায় রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও পিআইও’র সহযোগিতায় ঠিকাদার কোনোরকমে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) তথ্যমতে, রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থ সালে প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে তারাছা ইউনিয়নের ছাইঙ্গ্যা তেঁতুলিয়াপাড়া ও ফাইক্ষ্যংগ্রীপাড়া ১ কিলোমিটার দু’টি সড়ক নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম এন্টারপ্রাইজ। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করিম এন্টারপ্রাইজ কাজটি পেলেও মাঠ পর্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন উপ-ঠিকাদার হুমায়ন কবির এবং খলিল মাঝি। জানা যায়, মিলটন দস্তিদার বান্দরবান সদর উপজেলায় মূল দায়িত্বে থাকলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে রোয়াংছড়ি উপজেলায়ও দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এর আগে তিনি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন অনিয়মের কারণে শাস্তিমূলক হিসেবে বান্দরবানে বদলি হোন। কিন্তু বান্দরবানে এসেও নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি।  

স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট, পাহাড়ের মাটি, নদীর বালি দিয়ে করা হচ্ছে রাস্তার সেন্ট ফিলিং-এর কাজ। রাস্তায় ৬ ইঞ্চি সেন্ট ফিলিং করার কথা থাকলেও ৪-২ ইঞ্চি পাহাড়ি মাটি ও নদীর বালি মিশ্রিত সেন্ট ফিলিং-এর উপর  রোলার গাড়ি দিয়ে কম্পেকশন না করেই বাসানো হচ্ছে অর্ধ ভাঙ্গা ও নিম্নমানের ইট। 

সড়ক নির্মাণে অনিয়ম যাতে বোঝা না যায় সেজন্য নতুন নির্মিত রাস্তার উপর দেয়া হয়েছে অতিরিক্ত ঝিরির বালি। ফলে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে আশঙ্কা। তারা আরও জানান, সড়ক নির্মাণের কাজটি নিয়মিত তদারকি না করে ঠিকাদারকে সহযোগিতা করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার।

ঠিকাদার হুমায়ুন কবির বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্ষমতার দাপটে উপজেলা অফিসের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেছেন। এখনো একই নিয়মে নিয়মনীতির  তোয়াক্কা না করে বাস্তবায়ন করতে উপজেলা পিআইও মিল্টন দস্তিদারকে আর্থিকভাবে সুবিধা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে ঠিকাদার হুমায়ুন করিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে, কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। 

তারাছা ইউপি সদস্য মো.  মোরশেদ জানান, সড়ক নির্মাণ কাজে অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আমাকে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়টি ঠিকাদারকে বললে ঠিকাদার উল্টো মেম্বারকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করেন। এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার বলেন, সড়কের কাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার হচ্ছে এমন অভিযোগে আমরা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। 

ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি নিম্নমানের ইটগুলো পরিবর্তন করতে এবং আপাতত কাজ বন্ধ করতে।

এ বিষয়ে রোয়াংছড়ি উপজেলা কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি চলমান দুইটি উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করায় কাজ দুইটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছেন। কাজের মান ভালো না করলে এসব কাজ নতুন করে করাতে বাধ্য করবেন বলে জানান তিনি।



অসীম রায়( অশ্বিনী)

বান্দরবান

Post a Comment

أحدث أقدم
DailyKhobor.Com | ডেইলি খবর
DailyKhobor.Com | ডেইলি খবর